এস এম তাজাম্মুল,মণিরামপুরঃ পারবারিক দেখাশোনার পর বিয়ে। বিয়ের পর মিঠুন-সমাপ্তির কোল জুড়ে আসে ফুটফুটে ছেলে সন্তান। মিঠুনের মা আর স্ত্রী সমাপ্তি ছাড়া বাড়িতে কেউ নাই।পাকা বাড়ি আর মাঠে ফসলী জমি,এদিকে সমাপ্তির পিতার পরিবারও সচ্ছল। দায় বিদায় মিঠুনের শ্বশুর দেড় বছর যাবত দিয়ে আসছে বিভিন্ন অংকের টাকা। তবুও মিঠুনের চাহিদা মেটেনা। প্রাইয় গেলে যৌতুকের দাবি জানিয়ে দিতে দেরী হলে সমাপ্তিকে করে শারীরিক নির্যাতন। সর্বশেষ মারধরের পর ৬ মাসের শিশু সন্তান সহ সমাপ্তিকে তার বাবার বাড়িতে রেখে এসে গোপনে নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে তথ্য গোপন করে নিজের মা ও বোনজামাই তুষারের প্রয়োচনায় পড়ে স্বামী মিঠুন মন্ডল দিয়েছেন একক বিবাহ বিচ্ছেদের ঘোষণা। 

‎মর্মাহত এ ঘঠনাটি ঘটিয়েছে যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ১৪নং দূর্বাডাংগার শ্যামনগর গ্রামের মৃত নারায়ন মন্ডলের ছেলে মিঠুন মন্ডল।

‎উল্লেখিত ঘঠনার ক্ষতিগ্রস্ত একই উপজেলার গোবরডাংগা গ্রামের জৈনক উজ্জল বিশ্বাসের মেয়ো শারীরিক (চোখ) প্রতিবন্ধী সমাপ্তি বিশ্বাস ৬ মাসের শিশু সন্তান সহ আইনি সহায়তা পেতে মণিরামপুর রিপোর্টার্স ক্লাবে স্বশরীরে হাজির হয়ে তার স্বামী মিঠুন মন্ডলের বিরুদ্ধে মিমাংসা চেয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন যে,দেড় বছর ধরে শারীরিক নির্যাতন সহ্য করে সমাজ ও পরিবারকে ভালো রাখতে স্বামীর ঘরে অবস্থান করছি। কিন্তু আমার স্বামী ও শ্বাশুড়ির অত্যাচারের মাত্রা আমাকে আজ এ পর্যন্ত এনেছে।কাউকে কিছু না জানিয়ে হঠাৎ কোর্টের মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদের ঘোষণা করেছে, আমি এর বিচার চাই।

‎অভিযোগ উঠেছে,দেড় বছর আগে পারিবারিক দেখাশোনা করে এই দম্পতির বিয়ে হয়। ছোটবেলা হতে একচোখে সমস্যার কারনে সমাপ্তির বিয়ের সময় অর্থলোভী মিঠুনের মা সুমিতা মন্ডল ৫লক্ষ টাকা দাবী করলে সমাপ্তির পিতা উজ্জল বিশ্বাস তা মিটিয়ে দেই। কিন্তু অধিক লোভের কারনে প্রাইয় সমাপ্তিকে অযথা দোষারোপ করে মারধর করে ও তার বাবার কাছে টাকা চাইতে বলে। একমাত্র মেয়ের সুখের জন্য যখন যা,যে পরিমান অর্থ দাবী করেছে তা মিঠুনের পরিবারকে দেওয়া হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন পরিচয় গোপনকারী তাদের দুই পরিবারে অর্থ লেনদেন করা স্থানীয় এক ব্যাক্তি।

‎তথ্য মোতাবেক,মিঠুন মন্ডল ও গ্রাম পুলিশ মহিতোষ সরকার গত ২১ দিন আগে ঝগড়া বিবাদ মেটাতে নির্বাচনের পর নিয়ে যাবে এ মর্মে বাচ্চা সহ সমাপ্তিকে গোবরডাংগায় বাবার বাড়িডে রেখে আসে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কয়েকজন এ বিষয়ে বসাবসি করে সমাধান করার কথা থাকলেও হঠাৎ নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে গত ২৩ তারিখে(সোমবার) একক বিবাহ বিচ্ছেদের নোটিশ প্রদান করেছে অভিযুক্ত মিঠুন মন্ডল। চলতি মাসের ৮ তারিখে ঘোষনাকৃত ঐ নোটিশটি স্থানীয় দূর্বাডাংগা ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে পাঠানো হলেও এভিডেভিডে কোথাও ৬ মাসের শিশুর কথা উল্লেখ করা হয়নি।

‎তবে এ সমস্ত বাস্তবিক পাওয়া অভিযোগ অস্বীকার করে লম্পট স্বামী উপজেলার শ্যামনগর গ্রামের মৃত নারায়ন মন্ডলের ছেলে মিঠুন মন্ডলও তার মা সুমিতা মন্ডল দাবী করেছেন যে, তারা কোন টাকা এ পর্যন্ত নেইনি। সমাপ্তি নিজে খারাপ ও তার শ্বাশুড়িকে প্রাইয় মারধর করতো। সর্বশেষ স্বামী মিঠুন মন্ডল জানান যে,কোর্ট আমাকে চেনাতে হবেনা,আমার বোন জামায় তুষার আর আমাকে পারলে কিছু করে নিও।

‎এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ আলতাফ হোসেন জানান,আমি মিঠুনকে বলেছিলাম মিমাংসা করব। সে আমাকেও উপেক্ষা করে যে কাজটি করেছে তা আসলেই অন্যায়। তার সঠিক বিচারিক কার্যক্রমে আমিও সহায়তা করব।

‎এ ব্যাপারে নোটারী পাবলিকের এভিডেভিড সংক্রান্ত বিষয়ে স্বাক্ষরিত এড. তাহমিদ আকাশ জানান যে, বিবাহ বিচ্ছেদের বিষয়ে আসছিলো মিঠুন।কিন্তু সে বাচ্চার কথা উল্লেখ করেনি। যদি বাচ্চা থাকে তাহলে সে অন্যায় করেছে, অবশ্যই তার খোরপোশ ও লেনদেন থাকলে তা মেটাতে হবে। আপনারা চাইলে স্থানীয় ভাবে বসাবসির মাধ্যমে সমাধান করেন, সহযোগিতা লাগলে আমি একটি আপোষনামা পাঠিয়ে দিবো।